স্তনের একজিমা বনাম স্তন ক্যান্সার: লক্ষণ, পার্থক্য ও মুক্তির উপায়
স্তনের চামড়ায় চুলকানি বা একজিমা হওয়া নারীদের একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু অনেক সময় স্তন ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ দেখতে হুবহু একজিমার মতো হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, যার একটি বড় অংশ সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না করার কারণে জটিলতায় পড়েন। আজকের পোস্টে আমরা আলোচনা করবো স্তনের বিভিন্ন ধরনের একজিমা এবং কীভাবে বুঝবেন এটি সাধারণ একজিমা নাকি ক্যান্সারের পূর্বলক্ষণ।
১. স্তনের বিভিন্ন ধরনের একজিমা
স্তনে সাধারণত তিন ধরনের একজিমা দেখা দিতে পারে:
এ্যাটপিক একজিমা (Atopic Eczema): এটি মূলত বংশগত এলার্জি। যদি পরিবারে কারো হাঁপানি বা সর্দি-কাশির সমস্যা থাকে, তবে স্তনের বোঁটায় এই একজিমা দেখা দিতে পারে।
নিউরোডার্মাটাইটিস (Neurodermatitis): অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা থেকে এই চুলকানি শুরু হয়। চুলকাতে চুলকাতে স্তনের বোঁটা বা চারপাশের চামড়া খসখসে ও মোটা হয়ে যায়।
কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস (Contact Eczema): অন্তর্বাস বা ব্রেসিয়ারের রাবার, সিনথেটিক কাপড় কিংবা ডিটারজেন্টের সংস্পর্শ থেকে এই এলার্জি বা একজিমা হতে পারে।
২. স্তন একজিমা নাকি ক্যান্সার? বুঝবেন যেভাবে
সাধারণ একজিমা এবং 'পেজেটস ডিজিজ' (এক ধরনের স্তন ক্যান্সার) দেখতে অনেকটা একই রকম হলেও কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে:
| বৈশিষ্ট্য | স্তনের একজিমা | স্তনের ক্যান্সার (Paget's) |
|---|---|---|
| আক্রান্ত স্থান | সাধারণত দুই স্তনেই একসাথে হয়। | বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি স্তনে হয়। |
| বোঁটার অবস্থা | বোঁটা স্বাভাবিক থাকে, শুধু চামড়া ওঠে। | বোঁটা ভিতরের দিকে ঢুকে যেতে পারে। |
| ক্ষত বা চাকা | কোনো শক্ত চাকা বা ক্ষত থাকে না। | চামড়ার নিচে শক্ত চাকা বা ক্ষত হতে পারে। |
| নিঃসরণ | কষ বা পানি ঝরতে পারে। | রক্ত বা রক্তের মতো লালচে পানি বের হয়। |
৩. একজিমা থেকে মুক্তির উপায় ও চিকিৎসা
- সব সময় পরিষ্কার ও সুতি কাপড়ের অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ পরিহার করুন, কারণ এটি নিউরোডার্মাটাইটিস বাড়ায়।
- চুলকানি হলে নখ দিয়ে না চুলকিয়ে ঠান্ডা পানি বা চিকিৎসকের পরামর্শে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
- যদি সাধারণ চিকিৎসায় ২-৩ মাসের মধ্যে একজিমা না সারে, তবে অবশ্যই বায়োপসি বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে।
আমার শেষ কথা
স্তন একজিমা ছোঁয়াচে নয় এবং সঠিক চিকিৎসায় এটি দ্রুত সেরে যায়। তবে এক পাশের স্তনে দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি, ক্ষত বা বোঁটা দেবে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা করা একদম উচিত নয়। প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার ধরা পড়লে তা শতভাগ নিরাময়যোগ্য। তাই লজ্জা না পেয়ে যেকোনো অস্বাভাবিকতায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। স্বাস্থ্য এবং সচেতনতা বিষয়ক আরও তথ্য পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন TechSohag.Com। ধন্যবাদ!
সচেতনতা ও সঠিক শিক্ষাই পারে ক্যান্সার জয় করতে।
