অনলাইনে জিরো রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম | বাংলাদেশের সকল কর অঞ্চল (Tax Zone) ও অফিসের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর

e return bd,e return filing bd,e return filing income tax bd,online tax return submission bd,zero return filing income tax bd,zero tax return banglade
Sohag
অনলাইনে জিরো রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম

অনলাইনে জিরো রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬ | Zero Tax Return Bangladesh

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—"আমার তো করযোগ্য আয় নেই, তাহলে আমি কেন রিটার্ন জমা দিবো?" বর্তমানে বাংলাদেশের আয়কর আইন অনুযায়ী, আপনার করযোগ্য আয় থাকুক বা না থাকুক, যদি আপনার একটি **TIN (Tax Information Number)** থাকে, তবে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। যাদের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে এবং কোনো ট্যাক্স দিতে হয় না, তাদের জমা দেওয়া রিটার্নকেই বলা হয় **জিরো রিটার্ন (Zero Return)**। আজকের পোস্টে আমি ঘরে বসে অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিলের সম্পূর্ণ পদ্ধতি ধাপে ধাপে শেয়ার করবো।

১. জিরো রিটার্ন দিতে কী কী প্রয়োজন?

অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিল করার জন্য আপনার হাতের কাছে নিচের তথ্য ও ডকুমেন্টগুলো রাখুন:

TIN নম্বর: আপনার ১২ ডিজিটের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর।
নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর: যেটি আপনার এনআইডি দিয়ে কেনা এবং টিআইএন-এর সাথে যুক্ত।
আয়ের তথ্য: যদিও জিরো রিটার্ন, তবুও আপনার বাৎসরিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের একটি আনুমানিক হিসাব।

২. অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিলের ধাপসমূহ

নিচে সহজ পদ্ধতিতে জিরো রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো:

ধাপ ১: রেজিস্ট্রেশন ও সাইন-ইন
প্রথমে etaxnbr.gov.bd পোর্টালে যান। আপনার TIN এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড সেট করে লগইন করুন।
ধাপ ২: কর নির্ধারণ তথ্য (Assessment): 'Return Submission' অপশনে গিয়ে বর্তমান অর্থবছর এবং Resident Status সিলেক্ট করুন। আপনার কোনো করযোগ্য আয় না থাকলে 'No' অপশনগুলো সাবধানে পূরণ করুন।
ধাপ ৩: আয়ের উৎস ও সম্পদ বিবরণী: আপনার প্রধান আয়ের উৎস (যেমন: প্রাইভেট জব বা ব্যবসা) এবং আপনার মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করুন। মনে রাখবেন, মোট সম্পদ ৪০ লক্ষ টাকার নিচে হলে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে দেওয়া ভালো।
ধাপ ৪: ব্যয় বিবরণী (Expenditure): আপনার বাৎসরিক খাওয়া-দাওয়া, পোশাক এবং যাতায়াত বাবদ যে খরচ হয় তা ইনপুট দিন। যেহেতু এটি জিরো রিটার্ন, তাই আপনার মোট আয় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি।

৩. রিটার্ন দাখিল ও একনলেজমেন্ট প্রাপ্তি

সব তথ্য পূরণ করার পর **'Tax and Payment'** ট্যাবে আপনার প্রদেয় কর 'Zero' বা '0' দেখাবে। এরপর আপনার রিটার্নটি প্রিভিউ করে দেখে নিন সব ঠিক আছে কি না। সব ঠিক থাকলে **'Submit Return'** বাটনে ক্লিক করুন। সফলভাবে সাবমিট হলে আপনি একটি ডিজিটাল **Acknowledgement Receipt** পাবেন। এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন, কারণ ব্যাংক লোন বা অন্যান্য সরকারি কাজে এটি প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশের সকল কর অঞ্চল (Tax Zone) ও অফিসের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া কিংবা কর সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধানের জন্য আমাদের সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে যোগাযোগ করতে হয়। বাংলাদেশে অনেকগুলো কর অঞ্চল রয়েছে এবং প্রতিটি অঞ্চলের নির্দিষ্ট অফিস ও কর্মকর্তাদের তালিকা এনবিআর (NBR) কর্তৃক নির্ধারিত। পাঠকদের সুবিধার্থে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ সারা বাংলাদেশের প্রধান কর অফিসগুলোর নাম, ঠিকানা ও ইমেইল নিচে তালিকাভুক্ত করা হলো।

কর অঞ্চল তালিকা: ঢাকা (Dhaka Tax Zones)

ঢাকার প্রধান কর অফিসগুলো মূলত সেগুনবাগিচা, কাকরাইল এবং উত্তরা এলাকায় অবস্থিত। নিচের তালিকায় বিস্তারিত দেখুন:

কর অঞ্চল অফিসের ঠিকানা যোগাযোগ ও ইমেইল
কর অঞ্চল-১ ২য়-১২ তলা সরকারি ভবন, সেগুনবাগিচা, ঢাকা 01751283888
taxzone1dhk@yahoo.com
কর অঞ্চল-২ সেগুনবাগিচা, ঢাকা 01715905754
taxzone2@yahoo.com
কর অঞ্চল-৩ ৩৫ পাইওনিয়ার রোড, কাকরাইল, ঢাকা 01711539003
nfb-2008@yahoo.com
কর অঞ্চল-৯ সেক্টর-১৩, উত্তরা, ঢাকা 01715013413
atia_1961@yahoo.com

বিভাগীয় কর অঞ্চল তালিকা (Other Division Tax Zones)

ঢাকার বাইরের প্রধান শহরগুলোর কর অফিসের তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

চট্টগ্রাম (অঞ্চল-১): সরকারি কার্য ভবন-১, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম। ইমেইল: taxctg@gmail.com
খুলনা: কর ভবন, বয়রা, খুলনা। ফোন: 01711271038
রাজশাহী: কর ভবন, হেলেনাবাদ, রাজশাহী। ইমেইল: Ctrajbd@yahoo.com
সিলেট: ৬২ শুভেচ্ছা হাউজিং এস্টেট, আম্বার খানা, সিলেট। ফোন: 01730007889
বরিশাল: কর ভবন, ক্লাব রোড, বরিশাল। ইমেইল: karbarisal@gmail.com

বিশেষায়িত ইউনিটসমূহ

  • বৃহৎ করদাতা ইউনিট (LTU): ২য়-১২ তলা সরকারি ভবন, সেগুনবাগিচা, ঢাকা।
  • কেন্দ্রীয় জরীপ অঞ্চল: ২২ পুরানা পল্টন, ঢাকা। ফোন: 01715018608
  • বিসিএস কর একাডেমী: ২৭/১, নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা।

কেন আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া জরুরি?

বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে ১,০০০ টাকা থেকে শুরু করে পূর্ববর্তী বছরের করের ১০% পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া বর্তমান ডিজিটাল যুগে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ বা গাড়ি কেনার মতো কাজে রিটার্ন জমার স্লিপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আমার শেষ কথা

আয়কর দেওয়া শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণের একটি মাধ্যম। জিরো রিটার্ন জমা দেওয়া এখন অত্যন্ত সহজ এবং আপনি ঘরে বসেই কয়েক মিনিটের মধ্যে এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন। তবে আপনার আয়ের উৎস জটিল হলে বা সম্পদের পরিমাণ বেশি হলে একজন আয়কর আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া ভালো। টেকনোলজি এবং অনলাইন ইনকাম সংক্রান্ত আরও টিপস পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন TechSohag.Com। ধন্যবাদ!

সঠিক সময়ে রিটার্ন দিন, জরিমানা থেকে মুক্ত থাকুন।

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.
Md Sohag Rana এখন অনলাইনে আছে...
আসসালামু আলাইকুম, আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
Type here...