অনলাইনে নতুন বাইক রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম ও খরচ ২০২৬ | New Vehicle Registration Fee & Cost
বাইক রেজিস্ট্রেশন কেন বাধ্যতামূলক?
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সড়কে মোটরযান চালানো একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বাইক চালালে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তাই নিজের ও নিজের বাইকের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করা জরুরি।
নতুন বাইক রেজিস্ট্রেশন ফি (Noton Bike Registration Fee)
বাইকের ওজন এবং ইঞ্জিন ক্ষমতার (CC) ওপর ভিত্তি করে রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারিত হয়। ভ্যাটসহ বর্তমান ফি-র একটি ধারণা নিচে দেওয়া হলো:
- ১০০ সিসি বা তার নিচে: ওজন ৯০ কেজির নিচে হলে ১২,৩৯০/- টাকা এবং ৯০ কেজির বেশি হলে ১৭,৩৯০/- টাকা।
- ১০০ সিসি থেকে ১৫০ সিসি: ওজন ৯০ কেজির নিচে হলে ১৩,৭৯০/- টাকা এবং ৯০ কেজির বেশি হলে ১৮,৭৯০/- টাকা।
অনলাইনে ফি জমা ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতি
এখন আপনি ঘরে বসেই BRTA Service Portal (BSP) এর মাধ্যমে ফি জমা দিতে পারেন। অনলাইনে টাকা জমা দেওয়ার পর এ্যাসেসমেন্ট স্লিপ নিয়ে বাইকটি বিআরটিএ অফিসে পরিদর্শনের জন্য হাজির করতে হবে। এরপর আপনার মোবাইলে এসএমএস আসলে নির্দিষ্ট তারিখে গিয়ে বায়োমেট্রিক (ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ) প্রদান করতে হবে। সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার ডিজিটাল নাম্বার প্লেট ও স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়ে যাবেন।
নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করার শর্তাবলী ও প্রয়োজনীয় কাগজের তালিকা
বিআরটিএ-র নিয়ম অনুযায়ী নতুন মোটরযান নিবন্ধনের জন্য নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে এবং কাগজপত্র জমা দিতে হবে:
- আবেদনপত্র: মালিক ও আমদানিকারক/ডিলার কর্তৃক যথাযথভাবে পূরণ ও স্বাক্ষর করা নির্ধারিত আবেদনপত্র। যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে একজনের নামে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সকলের সম্মতি সম্বলিত হলফনামা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সিলমোহর এবং ব্যাংকের লোন থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেদন করতে হবে।
- আমদানি সংক্রান্ত কাগজ: বিল অব এন্ট্রি, ইনভয়েস, বিল অব লেডিং এবং এলসিএ (LCA) কপি।
- বিক্রয় প্রমাণপত্র: সেল সার্টিফিকেট বা বিক্রয় প্রমাণপত্র।
- ডেলিভারি তথ্য: প্যাকিং লিস্ট, ডেলিভারি চালান ও গেট পাস (বিশেষ করে সিকেডি গাড়ির ক্ষেত্রে)।
- ট্যাক্স ও আয়কর: মালিকের TIN সার্টিফিকেট এবং অগ্রিম বা অনুমিত আয়কর প্রদানের প্রমাণপত্র।
- বিদেশি নাগরিকদের জন্য: বিদেশি নাগরিকের নামে রেজিস্ট্রেশন হলে বাংলাদেশের ওয়ার্ক পারমিট এবং ভিসার মেয়াদের কপি।
- ভ্যাট সংক্রান্ত: মূসক-১, মূসক-১১(ক) অথবা ভ্যাট পরিশোধের চালান (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
- ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন: বাস, ট্রাক বা হিউম্যান হলারের ক্ষেত্রে বিআরটিএ অনুমোদিত বডি ও আসন ব্যবস্থার ড্রইং।
- সিকেডি গাড়ির ক্ষেত্রে: বিআরটিএ-র টাইপ অনুমোদন ও অনুমোদিত সংযোজনী তালিকা।
- বডি ভ্যাট: বডি তৈরির ভ্যাট ও ভ্যাট পরিশোধের রসিদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
- ফি প্রদানের রসিদ: বিআরটিএ নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি জমাদানের মূল রসিদ।
- ছাড়পত্র: কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) ছাড়পত্র।
- ঠিকানার প্রমাণ: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট অথবা বিদ্যুৎ/টেলিফোন বিলের সত্যায়িত ফটোকপি।
- প্রতিরক্ষা বিভাগের গাড়ি: নিলামে কেনা প্রতিরক্ষা বিভাগের গাড়ির ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ছাড়পত্র ও প্রস্ততকারকের বিস্তারিত বিবরণ।
- সরকারি/স্বায়ত্বশাসিত গাড়ি: নিলামে কেনা সরকারি গাড়ির ক্ষেত্রে নিলামের কাগজপত্র ও মেরামতের বিবরণ।
- রিকন্ডিশন্ড গাড়ির জন্য অতিরিক্ত:
- টিও (TO) ও টিটিও (TTO) ফরম এবং বিক্রয় রসিদ।
- ডি-রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের মূল কপি এবং ইংরেজি অনুবাদের সত্যায়িত কপি।
- পরিদর্শন প্রতিবেদন: বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক কর্তৃক গাড়িটির পরিদর্শন প্রতিবেদন বা ফিটনেস রিপোর্ট।
👉 টিটিও ফরম (TTO): ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের প্রথম ধাপে যে শোরুম কিংবা ডিলার থেকে যখন নতুন মোটরসাইকেল কিনবেন সাথে সাথে আপনাকে একটি মানি রিসিট, এবং একটি ডেলিভারি চালান শোরুম থেকে দিবে। ডেলিভারী চালানে গাড়ির বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া থাকে।
প্রথমদিন হয়তো আপনাকে মানি রিসিট, এবং একটি ডেলিভারি চালান এই দুইটি ডকুমেন্টস দিয়েই মোটরসাইকেল ডেলিভারি দিবে। আপনি যখন শোরুম বা ডিলারকে আপনার মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন এর ফাইল রেডি করতে বলে আসবেন তখন তারা ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে একটি ফাইল প্রস্তুত করে আপনাকে দিবে। সে ফাইলে রেজিস্ট্রেশন এপ্লিকেশন ফর্ম, আপনার তথ্য, সেলস ইনভয়েজ, কর চালানপত্র, চালান ফরম, গেট পাস, প্যাকিং লিস্ট, শুল্ক রিসিট, অঙ্গীকারনামাসহ মোট প্রায় ২৫ পৃষ্টার একটি ফাইল থাকবে।
ফাইলটি পাওয়ার পর আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে গাড়ির জন্য BRTA কতৃপক্ষের নিকট টাকা জমা দেওয়া। অনলাইনে কিংবা ব্যাংকে গিয়ে আপনি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফিস জমা দিতে পারবেন। ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়া রীতিমত হয়রানীর ব্যাপার তাই, অনলাইনে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফিস জমা দিন।
আমার শেষ কথা
শোরুমের ওপর নির্ভর না করে নিজে সরাসরি বিআরটিএ অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করলে আপনি বাইকের সব তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে পারবেন এবং বাড়তি খরচও সাশ্রয় হবে। বিশেষ করে ২ বছরের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা বর্তমান সময়ে অনেকের কাছে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। মনে রাখবেন, সঠিক কাগজপত্রের অভাবে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে, তাই সব ডকুমেন্ট আগেভাগেই সংগ্রহ করুন। বিআরটিএ এবং বাইকের প্রযুক্তিগত আরও টিপস পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন TechSohag.Com। ধন্যবাদ!
নিরাপদ ড্রাইভ করুন, বৈধভাবে পথ চলুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে রাখুন, নিরাপদ পথ চলুন।
